হঠাৎ বাঁশখালীতে দুদকের হানা পৌর মেয়র লাপাত্তা অবশেষে তালা ভেংগে নথি উদ্ধার।

হঠাৎ বাঁশখালীতে দুদকের হানা পৌর মেয়র লাপাত্তা অবশেষে তালা ভেংগে নথি উদ্ধার।
হঠাৎ বাঁশখালীতে দুদকের হানা পৌর মেয়র লাপাত্তা অবশেষে তালা ভেংগে নথি উদ্ধার।

চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালীর পৌরসভায় দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম ২ এর সহকারী পরিচালক মোঃ হুমায়ুন কবির ও টিম লিডার রতন কুমার দাশের নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম আজ ১৫/১০/১৯ইং বিকাল ৩টার দিকে অভিযান শুরু করে।আগাম খবর পেয়ে পৌর মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী লাপাত্তা হন।তাকে অফিসে পাননি দুদক।তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভুক্তভোগী মহল হতে নানা অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে।উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ চট্টগ্রাম হতে দুদকের টিমটি বাঁশখালীতে সরেজমিনে প্রাথমিক তদন্তে আসেন।

উল্লেখ্য যে,বাঁশখালী পৌরসভা মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পৌর পরিষদের মাসিক সভায় কাউন্সিলরদের মতামত কিংবা পরামর্শ এড়িয়ে যাওয়া,টেন্ডারে অনিয়ম,অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ নিয়োগ প্রদান,ঘুষ গ্রহণসহ খাসকামরার নামে অফিসের পাশে আলাদা একটি কক্ষে মহিলা কর্মচারীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ সংক্রান্তসহ প্রায় ১২টি অভিযোগ করেছেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ দেলোয়ার হোছাইন,৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবলা কুমার দাশ,৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দীলিপ চক্রবর্তী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল কবির সিকদার।

উক্ত অভিযোগ যাচাই করার জন্য দুদক সরেজমিনে এসে তদন্ত শুরু করেন,বাঁশখালী পৌরসভা কার্যালয়ের কাউন্সিলর,কর্মচারীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কাগজপত্র সংগ্রহ করেন দুদক চট্টগ্রাম-২।তদন্ত চলাকালীন সময়ে দুদকের কর্মকর্তারা বাঁশখালী পৌরসভার একটি লোহার আলমিরার ড্রয়ার ভাঙতে দেখা গেছে।এ সময় তারা অভিযোগের সত্যতা পান বলে ও জানান। তারা পৌরসভায় ভিজিএফ এর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগটি ও সরেজমিনে তদন্ত করেন।

দুদক চট্টগ্রাম অঞ্চল ২ এর সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবীর এর কাছে অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা অভিযোগ পেয়েছি বাঁশখালী পৌরসভার ভিজিএফ এর চাল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে, অভিযোগটির ভিত্তিতে দুদক তদন্ত করতে বাঁশখালী এসেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রাথমিকভাবে আমরা বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করছি। কাগজপত্র নিয়ে যাচ্ছি, কমিশন বরাবর আমরা লিখিত তথ্য দিবো। এ সময় পৌর গোডাউনে বিজিএফএর চাল বিতরণে অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগকারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের পৌরসভার মেয়রের দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ গুলোর সত্যতা যাচাই করতে তদন্তে আসা দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

এই অভিযানটি করার পর দুদক চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদে হানা দেয়। সেখানেও তারা দীর্ঘ একঘন্টা ব্যাপি তদন্ত করে জম্ম নিবন্ধন শাখার ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার সত্যতা পান বলে জানান দুদক তদন্ত টিম।