স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও একটি ব্রীজ দিতে পারেনি কোন সরকার

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও একটি ব্রীজ দিতে পারেনি কোন সরকার
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও একটি ব্রীজ দিতে পারেনি কোন সরকার

মৌলভীবাজার ও নবীগঞ্জ সীমান্তবর্তী স্থানে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও এখন প্রর্যন্ত একটি ব্রীজ করে দিতে পারেনি কোন সরকার এরাবরাক (হাতিমারা) নদীর উপর। প্রতিশ্রæতির আর শেষ নেই, যেই নির্বাচন আসে সবাই প্রতিশ্রæতি দেন যখন নির্বাচন শেষ প্রতিশ্রæতিসহ সব অয়োজন শেষ।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ও হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থান এরাবরাক (হাতিমারা) নদী। মৌলীভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৩৫টি গ্রামের মানুষ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার মিলনস্থল নবীগঞ্জের আউশকান্দি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ও মৌলভীবাজার জেলার খলিলপুর ইউনিয়নের এরাবরাক (হাতিমারা) নদীর উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্থানীয় মানুষের চলাচল এ সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় বৃদ্ধ থেকে শুরু করে অনেক মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিতার লাগি আইছো বক্তব্য নিতায়, স্বাধীনতার পর থাকি কত লেখালেখি অইলো, হাতিমারা নদীর উপর বাশের সাঁকো বানাইতে গিয়া ও মামলা মোকদ্দমা জেল কাটলা কত জন সেতু তো আর অইলো না, টিভি, পত্রিকায় বক্তব্য দিয়ে লাভ নাই এ কথাগুলো বলেন। স্থানীয়রা বলেন, ভোটের সময় প্রার্থী অকলতের মুখে কী সুন্দর সূর, এটা করবো, সেটা করবো, আর অপনাদের কষ্ট থাকতোনায়, এবং অনেকেই ইঞ্জিনিয়ার আনিয়া মাপা মাপি করলা অমরারে কত স্বপ্ন দেখাইরলা সেতু অইবো, কিন্তু যখন ইলেকশন শেষ তাদের কথাও শেষ মাপা মাপি ও শেষ, স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বী নামদার মিয়া,ও আবু সুফিয়ান জানান এই স্থানে ২০০৮ইং সনে বাঁসের সাঁকো তৈরী করতে গিয়ে নবীগঞ্জ থানার গোপলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আমাদের ২৮জনকে বিবাদী করে জি,আর ১১৬/২০০৮ইং মামলা করেন এতে আমিসহ ২৭জন ১৫ দিন হাজতে ছিলাম, পরে নবীগঞ্জ থানার ইউ এন ও এবং মৌলভীবাজার থানার ইউ এন ও এর মাধ্যমে সালিস বৈঠকে বিষয় নিঃপত্তি হয়। এই মামলায় হজত বাসরত অনেক -ই আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্ত আজও হয়নি।
স্থানীয় জনসাধারণ আরও বলেন, মেঘের দিনে বাশের মধ্যে পা পিছলে পড়ে গিয়ে কত বুড়ো লোক আঘাত পায়, কত ছাত্রছাত্রী পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে যায় এবং অনেক আঘাত পাপ্ত হয়ে হাত পা ভাংঙ্গে কিন্ত কারো দুঃখ আসে না এসব দেখে। নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পাশেই মৌলভীবাজার জেলার খলিলপুর ইউনিয়ন। দুই জেলার সীমান্তজুড়ে এরাবরাক (হাতিমারা) নদী। এরাবরাক নদীর এপারে হবিগঞ্জ আর ওপারে মৌলভীবাজার সদর। মৌলভীবাজার সদরের কেশবচর, সাটিয়া, দেওয়াননগর, হলিমপুর, ঘোড়ারাই, কাটারাই, কাঞ্চনপুর, চানপুর, লামুয়া, খলিলপুর ও সাধুহাটি গ্রামের লোকজন বাজার হাট সহ সার্বিক যোগাযোগ নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারকে কেন্দ্র করে। ওই সব গ্রামের লোকজন দৈনন্দিন বাজার হাট সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য নৈকট্যতার কারণে আউশকান্দি বাজারে আসতে হয়। ওই সব গ্রামের ছেলে-মেয়েরা আউকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজসহ নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে লেখাপড়া করে। চিকিৎসার জন্য আউশকান্দি ও নবীগঞ্জ যেতে হয়। মামলা মোকদ্দমাসহ সরকারী দপ্তরে কোন কাজের জন্য মৌলভীবাজার সদরে যেতে হলেও আউশকান্দি থেকে বাসে শেরপুর, সেখান থেকে মৌলভীবাজার যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মিঠাপুর, ফরিদপুর, নোয়াহাটি, সিটফরিদপুর, ধর্মনগর, আলমপুর, নাজিমপুর, ফরাসতপুর, বখশিপুর, মুকিমপুর, সিছনপুর গ্রামের লোকজন আত্মীয় স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মৌলভীবাজার জেলার উল্লেখিত গ্রামে যাতায়াত করতে হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন দু’জেলার হাজার হাজার মানুষ হাতীমারা নদী পাড়াপাড় হতে হয়। কিন্তু প্রায় ৩শ মিটার প্রশস্থ নদীতে একটি ব্রীজ না থাকায় কারণে ঐ সব গ্রামের লক্ষাধিক লোককে চরম ভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটি সেতুর অভাবে ওই এলাকার লোকজন আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওই এলাকার মানুষজন যাতায়াত করার জন্য নিজেদের উদ্যোগে নির্মাণ করেছে একটি বাঁশের সাঁকো। ওই বাঁশের সাঁকোর উপরই নির্ভরশীল জনগণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। এ সাঁকো পাড় হতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কোমলমতি শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের। প্রতিবছর ওই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যয় করতে হয় লক্ষাধিক টাকা। এলাকাবাসী চাঁদা তুলে সাঁকো নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করেন। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেও সেতুটি পায়নি নদী-তীরবর্তী মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলার ৩৫টি গ্রামের মানুষ। নির্বাচন আসলে স্ব স্ব এলাকার প্রার্থীরা ব্রীজ নির্মানের আশ্বাস দিয়ে আসছেন যুগ যুগ ধরে। কিন্তু আশ্বাসের বাস্তবায়ন কেউ করেন নি, নির্বাচন শেষে তারা এ প্রতিশ্রæতির কথা ভুলে যান। এ দিকে প্রায় ৩ বছর পূর্বে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন ও হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সংসদ সদস্য এমএ মুনিম চৌধুরীকে অতিথি করে উভয় জেলার বাসিন্দাদের উদ্যোগে সভা করা হয়েছিল। ওই সভায় উভয় সংসদ সদস্যই সেতুটি নির্মাণ করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি আজ অবদি। সেতু না থাকায় আন্তঃসত্তা নারীসহ মুমূর্ষু রোগী নিয়ে নদীর ওপারের নবীগঞ্জ অংশের হাসপাতালে যেতে পারেন না তারা। এ কারণে বাধ্য হয়ে রোগীর জীবন বাঁচাতে ৩৫ কিলোমিটার দূরের মৌলভীবাজার শহরে অথবা ২৫ কিলোমিটার দূরের সরকার বাজার হয়ে শেরপুরে যেতে হয়। দুরত্বের কারণে অনেক মুমুর্ষ রোগী হাসপাতালে যাবার আগেই রাস্তায় মারা যায়। অথচ হাতীমারা নদীতে সেতু নির্মাণ হলে হাসপাতাল যেতে এলাকাবাসীর সময় লাগবে মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট। এলাকাবাসীর দাবী সর্বত্র বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোয়া লাগলেও বঞ্চিত এই এলাকার ৩৫টি গ্রামের মানুষ। তাই দ্রæততম সময়ের মধ্যে তাদের সমস্যা সামাধানে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসার এই আহব্বান ।