সিরাজদিখানে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ব্রিজ দিয়ে চলাচল

 

সালাহউদ্দিন সালমান।
সিরাজদিখানের বালুচর ইউনিয়নের সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ব্রিজ দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনসহ অধিবাসীরা।বালুচর ০২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চান্দের চর ও পূর্ব চান্দের চর গ্রামে অবস্থিত ওই দুটি সেতু দিয়ে প্রতিদিন পণ্য ও যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারও মানুষ চলাচল করেন।বিকল্প রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কোনো নজরদারি না থাকায় বাসিন্দারা এ বিষয়ে নানা প্রশ্নও তুলছেন। পুরাতন ঢালাই ভেঙে পড়া সেতুর ওপর কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণ করা ও চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এই দুই সরু সেতুর ওপর দিয়ে অসংখ্য ভারি যানবাহন চলাচল করছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এছাড়াও ব্রিজ দুুটি সরু হওয়ায় দুই দিক থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন ও পথচারীদের পারাপারের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত বছর ধরে ব্রিজ দুটি বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলো মেরামত করা না হলে যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। অন্যদিকে ব্রিজ দুটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন যানবাহনের চালকসহ এলাকাবাসী।সরেজমিন দেখা গেছে,বিগত চব্বিশ বছর আগে নির্মিত এ দুটি ব্রিজের উভয় পাশের গার্ডারে বেশ কয়েক বছর ধরেই মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে।বিপুল জনসংখ্যা চলাচলের রাস্তার সেতু দুটির দুই পাশের রেলিংগুলো ভেঙে গেছে, এমনকি একপাশের রেলিং একবারেই নেই। শুধু রডগুলো কোনো মতে ঝুলে আছে। আরেক পাশেরও অর্ধেক রেলিং নেই। হালকা-ভারি কোনো যান উঠলেই সেতু দুটি কাঁপতে থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই সেতুগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। এ অবস্থার মধ্যেও বাধ্য হয়ে হাজারও এলাকাবাসীসহ হালকা-ভারি যানবাহন চলাচল করছে ওই সেতু দুটি দিয়ে।আরও দেখা গেছে, মরণফাঁদে পরিণত হওয়া ব্রিজ দুটির ওপর দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে লরি, মালবাহী ট্রাক ও সিএনজি, লেগুনাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহন। এলাকার কৃষিপণ্য সরবরাহকারী পিকআপ, ট্রাক লরির নিত্যদিনের যাতায়াতের কারণে ব্রিজ দুটি ব্যাপক তির সম্মুখীন হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,অনেক আগেই ওই দুটি সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ দুই ব্রিজ দুটি অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্বল হলে সেতুর ঢালাই ভেঙে পড়ে। দুই পাশের বিমে ফাটল ধরে এবং সেতুর নিচে পিলারের মাঝ থেকে ইট খুলে খুলে পড়ে যায়।এতে সেতু ভেঙে পড়ার উপক্রম। ব্রিজের রেলিং খসেপড়ায় ওই স্থান গাড়ি নিয়ে অতিক্রমকালে ভয়ে বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। এ ছাড়া সড়কে কোনো বাতি না থাকায় রাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে। কয়েকবার বিষয়টি এলজিইডি প্রকৌশলী বিভাগকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং স্থানীয় লোকজনের কাছে পুরাতন ব্রিজ দুটির তেমন তথ্য পাওয়া না গেলেও ব্রিজ দুটি ২৫/২৬ বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।এলাকাবাসী আরও জানান যে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ব্রিজের ওপর দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারী মালবাহী মাহেন্দ্রা চলাচলের কারনে ইদানীং আরও বেশী তিগ্রস্ত হয়েছে সেতু দুটি এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতাদের এসব মাহেন্দ্রা বন্ধ না হলে যে কোন দিন সেতু দুটি ভেঙে ব্যাপক তি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য ভারি মালবাহী ট্রাক,অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের পিকআপ, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী বহনকারী গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এজন্য আমাদের সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ব্রিজ দুটি ভেঙে কখন যে কী হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌলী শোয়াইব বিন আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বরাদ্দ এলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দুটির স্থানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ হবে।তবে সাময়িকভাবে সেতু দুটির মেরামতের জন্য বালুচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে তার থেকে বরাদ্দ এনতে হবে।