চট্রগ্রামে র‍্যাব- ৭’র অভিযানে প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার- ৩

চট্রগ্রামে র‍্যাব- ৭'র অভিযানে প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার- ৩
চট্রগ্রামে র‍্যাব- ৭'র অভিযানে প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার- ৩

চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন হামজা খা লেন গাউছিয়া আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্য কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭।

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাবের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধর্ষক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ডাকাত, খুনি, বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, মানবপাচারকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগনের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর ২০১৯ ইং তারিখ নাজমা বেগম (৪৫), স্বামী- আবছার শরিফ, পিতা- মৃত হাজী আবুল হোসেন, বাসা- শরিফ ভবন ৭৩৭, সাং/ রাস্তা সুনিśয়া মাদ্রাসা রোড, নাজিরপাড়া, থানাঃ- পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যে, প্রতারক চক্রের তিন জন সদস্য কাজী প্রিয়া আক্তার মুক্ত (৪৪), জহিরুল হক মৃধা (৪১) এবং রেজাউল করিম (৪৩), প্রতারনা, ধোকাবাজ মহিলাহন, মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা আতĄসাত করা তাদের নেশা ও পেশা। তারা এলাকার সরলমনা মহিলাদের সাথে সম্পর্ক ˆতরি করে ছোট খাট লেনদেন করে প্রথমে স্বল্প মূল্য মানের চেক হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে উক্ত চেক গুলো ফিরিয়ে দিয়ে বিশ্বাস জমিয়ে স্বাক্ষরযুক্ত অলিখিত চেক গ্রহণ করে এবং চড়া সুদে টাকা ধার ্প্রদান করে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতার চালায় তারই পরিপ্রেক্ষিতে অদ্য ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং তারিখ ০৯০০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন হামজা খা লেন গাউছিয়া আবাসিক এলাকাস্থ, ১১১৭ ফাতেমা মঞ্জিল ৩য় তলার ডান পাশের কাজী প্রিয়া আক্তার মুক্তার ভাড়া বাসায় অভিযান অভিযান পরিচালনা করলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে আসামী ১। কাজী প্রিয়া আক্তার মুক্তা (৪৪), পিতা- মোঃ শহিদুল ইসলাম খান, গ্রাম- আড়াইসিধা দক্ষিনপাড়া (আজিমুদ্দিন হাজী বাড়ি), পোঃ- আড়াইসিধা চকবাজার, থানা- আশুগঞ্জ, জেলা- বি- বাড়িয়া, ২। মোঃ জহুরুল হক মৃধা (৪১), পিতা- মোজাম্মেল হক মৃধা, গ্রাম- দক্ষিণ জামালপুর (মৃধা বাড়ি), পোঃ- রুঘুপাড়া, থানা- বাগমারা, জেলা- রাজশাহী উভয় এ/পি ১১১৭ ফাতেমা মঞ্জিল (৩য় তলার ডান পাশের ফ্লাট), হামজা খা লেন, গাউছিয়া আবাসিক এলাকা, থানা- পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম মহানগর এবং ৩। মোঃ রেজাউল করিম (৪৩), পিতা- সেকান্দার আলী, সাং- উত্তর বাঁশকান্দী, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুর এ/পি দামপাড়া মসজিদ গলি, মান্নান ভবন নীচ তলা, থানা- চকবাজার, চট্টগ্রাম মহানগরদের’কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতারকৃত আসামীদের’কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন এবং তাদের বাসা তল্লাশী করে ৭৩ টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ফটোকপি (মোট টাকার পরিমাণ ১০০২,৬৪,৩৫,০০০ টাকা), ২১ টি বিভিন্ন ব্যাংকের ফেব্রীকেটেড/স্কোরড চেক (মোট টাকার পরিমাণ ৩৫,২০,০০০ টাকা), ১৪ টি বিভিন্ন ব্যাংকের ফাঁকা চেক, ১৪ টি বিভিন্ন ব্যাংকের ফাঁকা চেকর ফটোকপি, ২১৩ পেজ ফেক ইনডেনচার, ৩২ পেজ ফাঁকা স্ট্যাম্প, ৯ টি লেজার বই, ১ টি ডিপোজিট বই মামলার নথির বিশাল পরিমাণ এবং ০৫ টি ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত মালামাল সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাচঁলাইশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।