ঘুষ নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা, দাবি মুন্সিগঞ্জ আ.লীগের

সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানসহ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ নেয়ার অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। শুক্রবার বেলা ১১টায় স্থানীয় প্রেসক্লাবের সফিউদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

এ সময় সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছি, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি, কখনো কোনো অন্যায়ে জড়িত হইনি। এ পর্যন্ত কেউ দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছ থেকে ফায়দা না পাওয়ায় কুচক্রি মহল এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগ এর তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোহানা মহিউদ্দিন বলেন, ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তথাকথিত কিছু লোক মানববন্ধন করে সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকায় দলের পদ বিক্রির যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্নরূপে মিথ্যা ও বানোয়াট। মানববন্ধনে যারা অংশ নিয়েছেন তারা মুন্সীগঞ্জ আওয়ামী লীগের কেউ নন। এই মানববন্ধনের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশ করা মূলত জেলা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশকারীদের দলে ঠাঁই না দেয়ায় ভাড়া করা লোক দিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মানববন্ধন করেছে স্বার্থান্বেষী মহল।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিরপেক্ষভাবে কর্মীদের মূল্যায়ন করে জেলাব্যাপী ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জেলার কতিপয় স্বার্থান্বেষী নেতা বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দল থেকে অনুপ্রবেশকারীদের দলে ঠাঁই দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে । এতে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা ব্যর্থ হওয়ায় তারা নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সোহানা তাহমিনা অভিযোগ করেন, মানববন্ধনে অংশ নেয়া লোকজন জেলার কোনো নেতা নয়, টোকাইদের টাকা দিয়ে এনে কথিত এ মানববন্ধন করা হয়েছে। এতে জেলা আওয়ামী লীগ কিংবা কোনো ইউনিটের নেতাকর্মী ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি শামসুল আলম সবজল ও নূরুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পদক অ্যাড. আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল আহমেদ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামিল সিদ্দিক, রামপাল ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হাকিম, শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়র হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ জেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগে নেতৃবৃন্দের ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গত ৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকায় পদ পদবি বিক্রির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যা বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়।