কাজের অগ্রগতি নেই মোল্লারহাট সেতু নির্মাণে

 

সালাহউদ্দিন সালমান।
আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্রীজটির কাজ প্রথম শুরু হলেও মাঝে হঠাৎই কাজ বন্ধ হয়ে যায় পরে দীর্ঘ আট মাস পর ব্রীজ নির্মাণের কাজ পুনরায় চালু হলে সেতুর একপাশে পিলার নির্মাণ করার কাজ শুরু করতেই বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে সেতুর নির্মাণকাজে চলে ধীরগতি বলে জানান ঠিকাদার। মোল্লার হাটের এই ব্রীজটি একনেকে অনুমোদন হওয়ার পরে নিয়মানুযায়ী দরপত্র আহবান ও টেন্ডার ড্রপিং হয়েছিলো শুধু কেবল কার্যাদেশ প্রদান করার পূর্বে ড্রয়িংগত জটিলতা ও ড্রয়িংগত পরিবর্তনের জন্য ব্রীজটির নির্মাণে হাত দিতে কিছুটা সময় লেগেছিলো বলে জানান সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

এরই মধ্যে ভিবিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে সেতু নির্মাণের ধীরগতি নিয়ে।বালুর চর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক জানান,যেভাবে দ্রুতগতিতে কাজ করার কথা সেভাবে সেতুর কাজ মটেও হচ্ছেনা।মাঝে কাজ বন্ধ থাকার পর আবার এগারো মাস যাবত কাজ চালু হলেও কাজের তেমন কোন অগ্রগতি চোখে পড়েনি।এমনিতেই এ সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সাত বছর আগে নির্মিত মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান-বেতকা-সাপেরচর-পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা-১ সেতুসংলগ্ন ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা সড়কটি ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। সড়কটি ব্যবহারে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে ঢাকায় যাওয়ার সুযোগ থাকলেও একমাত্র কেরানীগঞ্জের মোল্লারহাট সেতু নির্মাণ না হওয়ায় কোনো সুফলই পায়নি মুন্সীগঞ্জবাসী।অবশেষে এগারো মাস ধরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও সেতু নির্মাণে ধীরগতি দেখে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।মোল্লারহাট সেতু নির্মাণে মাঝপথে অদৃশ্য কারণে প্রায় বন্ধ হয়ে থাকে সেতুর কাজ।গতকাল সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেতু নির্মাণে কোন কাজই হচ্ছেনা কয়েকজন শ্রমিক একটি গাছের নিচে বসে আরাম করছে এছাড়া বড় ধরনের কোন কাজের পরিধি দৃষ্টি গোচর হয়নি।বালুরচর প্রান্তে দীর্ঘ এগারো মাসে উঠেছে একটি মাত্র অপূর্ণাঙ্গ পিলার।নদীর উপর বা ওপারে এখনো কোন কাজের নমুনা তুলে ধরেনি ঠিকাদার।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা থেকে পোস্তগোলার তেঘরিয়া পর্যন্ত দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন আগে সড়ক নির্মাণ হলেও সেতুটির কারণে তিনটি উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করছিলেন। এ সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত স¤পন্ন হলে মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসীর স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানান নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। টঙ্গিবাড়ীর বেতকা থেকে সিরাজদিখানের বালুরচর ইউপির সাপেরচর গ্রাম দিয়ে বয়রাগাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা-১ সেতুর কাছে ঢাকা-মাওয়া সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। বালুরচর বাজার থেকে দুই কিলোমিটার পিচ ঢালাই রাস্তা ধলেশ্বরী দ্বিতীয় শাখা নদীর বক্তারচর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের সীমানা ও অপর প্রান্তে কেরানীগঞ্জের মোল্লারহাট পর্যন্ত সীমানা। দুই প্রান্তেই পাকা রাস্তা নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে সাত বছর আগে। কিন্তু কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরীর সংযোগ সেতুটি না থাকায় দুই প্রান্তের পাকা রাস্তা কোনো কাজেই আসছিল না। দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জ ও সিরাজদিখান উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সুফল ভোগ করার পাশাপাশি সব ধরনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডও পিছিয়ে রয়েছে। তাই মোল্লারহাট এলাকায় ধলেশ্বরীর দ্বিতীয় সেতুটি নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন হলে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেরও চাপ অনেকটা কমে আসবে।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাহী বি চৌধুরী জানান,মোল্লারহাট এলাকায় ধলেশ্বরীর দ্বিতীয় সেতুটির নির্মাণ কাজে ধীরগতির অভিযোগ আমিও পেয়েছি তবে নির্বিঘ্নে কাজ করার জন্য তদারকি ও সেতু সম্পর্কে সার্বক্ষণিক আমার নজরদারি আছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী দৈনিক সভ্যতার আলোকে জানান,এখন পর্যন্ত ব্রীজটি নির্মাণ করতে তেত্রিশ কোটি টাকা খরচ ধরলেও এর ব্যায় খরচ আরো বাড়বে।এগারো মাসেই সেতুর কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়ে গেছে।তবে ব্রীজ নির্মাণে আরও অন্তত দুই আড়াই বছর সময় লাগবে।ইতোমধ্যে সিরাজদিখান বালুর চর প্রান্তে পিলার উঠে গেছে।