‘অপকর্মের অভিযোগে’ দিনাজপুরে যুব মহিলা লীগের ৩ নেত্রী বহিষ্কার

25

দিনাজপুরে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের তিন নেত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ওই তিন নেত্রী হলেন- দিনাজপুর পৌর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলী আক্তার পিংকি, বিরামপুর উপজেলা পৌর যুব মহিলা লীগের সভাপতি শারমিন আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে হাবিবা।

রোববার দিনাজপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ছবি সিনহা ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদা বেগম মুক্তা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশক্রমে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ২২ (ক) উপধারা মোতাবেক তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হলো।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ছবি সিনহা জানান, উল্লিখিত তিন নেত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে পাঠানো হলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশক্রমেই ওই তিন নেত্রীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তবে এ ব্যাপারে সোমবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাবলী আক্তার পিংকি বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে গত ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর আমি রাজনীতি থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করি। তার পর থেকে আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করিনি।

কিন্তু গত ১৫ মার্চ যুব মহিলা লীগ দিনাজপুর শাখার সভাপতি ছবি সিনহা ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদা বেগম মুক্তা স্বাক্ষরিত একটি অব্যাহতিপত্র পাই। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ দেখতে পাই। অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ না থাকলেও সংবাদমাধ্যমে যুব মহিলা লীগ দিনাজপুর শাখার সভাপতি ছবি সিনহার দেয়া বক্তব্যে বলা হয়েছে- বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যেহেতু আমি আগেই পদত্যাগ করেছি, সেহেতু আমাকে বহিষ্কারের কোনো সুযোগ নেই। তার পরও তাদের বহিষ্কারের চিঠি নিয়ে বলতে চাই, তা হলো যে, আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে নিয়মবহির্ভূত ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী।

তিনি বলেন, কাউকে বহিষ্কারের আগে কারণ দর্শানো নোটিশ করার কথা। কিন্তু আমাকে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়নি। এমনকি আমি যে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছি, তা বারবার জানতে চাওয়ার পরও তা গ্রহণ বা বাতিল করা হয়েছিল কিনা, তাও জানানো হয়নি। উপরন্ত সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে– আমাকে অপকর্মের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা আমার সফলতা, অর্জন ও পারিবারিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে। তিনি এ ঘটনার জন্য সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক তদন্ত দাবি করেন।